নাটোরে ভিজিএফের চাল নিতে আসা ব্যক্তিদের মারধরের অভিযোগে মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা
নাটোরে ভিজিএফের চাল নিতে আসা ব্যক্তিদের মারধরের অভিযোগে মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল নিতে আসা ব্যক্তিদের মারধরের অভিযোগে নাটোরের নলডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নলডাঙ্গা থানায় মামলাটি করেন ভুক্তভোগী মর্জিনা বেগম নামের এক নারী।
মামলায় নলডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. মনিরুজ্জামানকে (৪০) প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন মেয়র মনিরুজ্জামানের অনুসারী সাগর মণ্ডল (৩০), রহিদুল প্রাং (৪৫), নিশান প্রাং (২২), মো. রুবেল (৩৫) ও মো.মিলন (৩৮)। বাকি কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে রাতে অভিযান চালানো হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম। তিনি বলেন, মামলাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে তাঁরা পালিয়ে থাকায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুরে মর্জিনা বেগমসহ ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দুস্থ নারী ও পুরুষ ঈদের ভিজিএফ চাল নেওয়ার জন্য পৌরসভা চত্বরে অপেক্ষা করছিলেন। ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শরিফুল ইসলাম চাল বিতরণ তদারকি করছিলেন। বেলা ১টার দিকে মেয়র মনিরুজ্জামান সেখানে গিয়ে চাল নিতে আসা ব্যক্তিদের গালিগালাজ করেন এবং ধাক্কা দিয়ে পৌরসভা থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় প্রতিবাদ করলে মেয়রের নির্দেশে তাঁর অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। হামলাকারীরা তাঁদের গুরুতর জখম করেন। পরে গুরুতর আহত চারজনকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর মেয়র মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শরিফুল ইসলাম টিপসই না নিয়েই তাঁর ব্যক্তিগত সমর্থকদের বেআইনিভাবে চাল দিচ্ছিলেন। তাই তিনি মেয়র হিসেবে এই কার্যক্রমে বাধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই কাউন্সিলরের সমর্থকেরা তাঁকে গালিগালাজ করেন। তখন তাঁর সমর্থকেরা উত্তেজিত হয়ে তাঁদের কিছু চড়থাপ্পড় মেরেছেন। কাউন্সিলরের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। এই আক্রোশে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়রের অভিযোগ সঠিক নয়। আমি আমার ওয়ার্ডের তালিকাভুক্ত দুস্থদের চাল দিচ্ছিলাম। আর আমার সঙ্গে মেয়রের পূর্ববিরোধ থাকায় তিনি সেটা সহ্য করতে পারেননি। অহেতুক মারপিট করে ত্রাসের সৃষ্টি করেছেন।’
এ ঘটনা নিয়ে গতকাল প্রথম আলোর অনলাইনে ‘ঈদের ভিজিএফ চাল নিতে এসে ১৫ জন মারধরের শিকার’ এবং আজ ছাপা পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে।
