Homepage Viral News Today

৩৬ বছর ধরে অন্তঃসত্ত্বা অস্ত্রোপচারে ব্যক্তির পেট থেকে বেরুল যমজ ভ্রুণ

৩৬ বছর ধরে অন্তঃসত্ত্বা অস্ত্রোপচারে ব্যক্তির পেট থেকে বেরুল যমজ ভ্রুণ

ভারতের নাগপুর শহরের বছর ষাটের সঞ্জু ভগৎ এক বিরল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর পেট ক্রমাগত ফুলে যাচ্ছিলো। পরিস্থিতি এমন হয়েছিলো তাঁকে সবাই ঠাট্টা করে ডাকতেন ‘অন্তঃসত্ত্বা পুরুষ’। সকলের ঠাট্টা সামলেও তিনি চিকিৎসকদের কাছে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। কিন্তু ক্রমে পেট এমন ফুলে যায় যে, শ্বাস নেওয়াই অসম্ভব হয়ে পড়ে । উপায়ন্তর না দেখে মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালে যাবার পর ধরা পড়ে যায় তাঁর গর্ভে রয়েছে ভ্রূণ!

এই বিরল শারীরিক অবস্থাকে বলা হয় “vanishing twin syndrome”. অর্থাৎ একটি অপরিণত শিশু জন্ম নেয় ভ্রূণের ভিতরে। একটি ভ্রূণের শরীরের ভিতরে বেড়ে ওঠে অন্য একটি ভ্রূণ। কিন্তু শেষপর্যন্ত দু’টি ভ্রূণই মারা যায়। ভগতকে তাঁর ফোলা পেটের জন্য অনেক গঞ্জনা সহ্য করতে হয়েছে। তার পরিবারের লোকজনও বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন।

ডাঃ অজয় মেহতা, যিনি ভগতের চিকিৎসা করছিলেন তিনি প্রথমে টিউমার ভেবে ভুল করেছিলেন।আশঙ্কা ছিল, ক্যান্সারে ভুগছেন রোগী। দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা করেন তাঁরা। আর তারপরই সামনে আসে আসল সত্য। একে একে সামনে আসে ভ্রূণের চুল, অঙ্গ, চোয়ালের মতো অংশ। যা আক্ষরিক অর্থেই হতভম্ব করে দিয়েছিল চিকিৎসকদের। ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন অনুসারে, Fetus-in-fetu (FIF) হল একটি বিরল সত্তা যেখানে একটি বিকৃত মেরুদণ্ডী ভ্রূণ তার যমজের দেহের মধ্যে আবদ্ধ থাকে।

এটি একটি অত্যন্ত বিরল অবস্থা, এখনো পর্যন্ত এরকম ১০০ টিরও কম কেস পাওয়া গেছে। তবে সংশয় ও বিস্ময়ের ঘোর থেকে এখনো বেরিয়ে আসতে পারেননি সঞ্জু ভগতের চিকিৎসকরা।

সূত্র : এনডিটিভি

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন